দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

এক দফা দাবি আদায়ে খুলনায় ২১ জেলার লাইন সাহায্যকারীদের অনশন ও কর্মবিরতি

6

খুলনা :

এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে খুলনায় অনশন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন ওজোপাডিকোর ২১ জেলার লাইন সাহায্যকারী (গেটিজ) বিদ্যুৎ শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

খুলনার লাইন সাহায্যকারী গেটিজ বিদ্যুৎ শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সংগঠনের সভাপতি মো. ফিরোজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমানের সঞ্চালনায় অনশন ও কর্মবিরতি অনুষ্ঠিত হয়।

অনশন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ২১ জেলার লাইন সাহায্যকারীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন, বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, বিদ্যুৎ ভবন ঘেরাও এবং কর্মবিরতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ অক্টোবর থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে দাবি আদায়ে কর্মসূচি নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো স্থায়ী সমাধান বা বিধিব্যবস্থা করা হয়নি। কর্মবিরতির সময় ওজোপাডিকোর তৎকালীন মহাব্যবস্থাপকের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি শিথিল করা হলেও পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে তারা বিনা বেতনে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২১ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা চাকরির স্থায়িত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

শ্রমিকদের এক দফা দাবি হলো—২১ জেলার লাইন সাহায্যকারী (গেটিজ) কর্মীদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজস্ব খাতে তাদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন আলম, ডিভিশন-১-এর সভাপতি মো. ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল কবির রানা, মো. শরিফ হোসেন, শাহিন হাওলাদার, শিমুল, জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন ডিভিশনের সদস্যরা।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুরশীদ আলমসহ কর্মকর্তারা অনশনস্থলে উপস্থিত হন। তারা শ্রমিকদের দাবির কথা শোনেন এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পানি পান করার মাধ্যমে অনশন কর্মসূচি সমাপ্ত করেন শ্রমিকরা।