দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

আঠারো মাইল-খুলনা মহাসড়কের বেহাল অবস্থা

29

পাইকগাছা :

সাতক্ষীরা-আঠারো মাইল-খুলনা মহাসড়ক দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথ। খুলনার পাইকগাছা ও কয়রাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ভারী যানবাহন।

তবে দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে উঁচু-নিচু অংশ, খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে অভিযোগ চালক ও স্থানীয়দের।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বিভিন্ন সময়ে ইট-বালু দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িক মেরামত করলেও তাতে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হয়নি। বর্তমানে কোথাও কোথাও বিটুমিন ও পাথরের খোয়া দিয়ে সংস্কার করতে দেখা গেছে। ব্যস্ততম এ মহাসড়কে সাময়িক মেরামত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

পাইকগাছা, কয়রা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলাসহ সুন্দরবনসংলগ্ন কয়েকটি উপজেলার মানুষের যাতায়াতে এ সড়কের গুরুত্ব রয়েছে। একসময় আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ তুলনামূলকভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও তখন কয়রা থেকে আঠারো মাইল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক ছিল অনুন্নত। পরবর্তীতে কয়রা-আঠারো মাইল আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের ফলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলেও আঠারো মাইল-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আঠারো মাইল থেকে চুকনগর আরসিসি সড়ক পর্যন্ত এবং আরসিসি সড়কের শেষ প্রান্ত থেকে ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ব্রিজ, ব্রিজের পর ডুমুরিয়া, ডুমুরিয়া থেকে খুলনা পাওয়ার গ্রিড এলাকা, খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দুই পাশ, রেলক্রসিংয়ের দুই পাশসহ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা নাজুক।

প্রথম দফায় সওজ ইট-বালু দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। তবে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এসব মেরামত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কার্পেটিংয়ের ওপর ইট-বালু ব্যবহারের কারণে সড়কের স্বাভাবিক মসৃণতাও নষ্ট হয়েছে।

বাসচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত মহাসড়কের জরাজীর্ণতার কারণে যাত্রীরা এখন বাসে চলতে চান না। অনেকে ছোট যানবাহনে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। এতে আমাদের আয় অনেক কমে গেছে।”

প্রাইভেটকার চালক ওবায়দুল্লাহ বলেন, “মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশই জরাজীর্ণ। এ কারণে চলাচল করতে আমাদের অনেক ভোগান্তি হয়।”

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক রেজাউল ইসলাম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে আমাদের প্রতিদিন রোগী বহন করতে হয়। কিন্তু মহাসড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত ঝাঁকুনি হয়। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে।”

খুলনা জেলা বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি অমরেশ কুমার মন্ডল বলেন, “কয়রা থেকে খুলনার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষুদ্র মেরামত করলেও সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় তা বেশিদিন টেকে না। উঁচু-নিচু ও গর্তের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে।”

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) পাইকগাছা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “খুলনা মহাসড়ক দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি। এর সঙ্গে ভারত, মোংলা বন্দরসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কের সংযোগ রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দায়সারা মেরামত কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও স্থায়ী সুফল পাওয়া যায় না। মহাসড়কের শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে টেকসই সংস্কার প্রয়োজন। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত মহাসড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার সড়ক উপবিভাগ-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, “খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত আরসিসি করণ প্রকল্পের চারটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডারের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে পারে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হলে মহাসড়কের বেশিরভাগ জরাজীর্ণতা আর থাকবে না।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার হলে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন চালক এবং ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।