দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“অবহেলায় মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত কাটীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়”

21

পাইকগাছা (খুলনা) :

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহাসিক কাটীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটে ধুঁকছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বারান্দা ও টিনের ছাউনির নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

রাড়ুলী ইউনিয়নের কাটীপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে কবির মামার বাড়ি। এছাড়া এই অঞ্চলই বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত।

১৯৮৬ সালে শিক্ষানুরাগী অমরনাথ বসুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি শুরুতে জুনিয়র পর্যায়ের ছিল। পরে ২০২২ সালের ৬ জুলাই এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি দুই একর জমি দান করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী।

তবে বিদ্যালয়ের একমাত্র ৩ কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি নির্মিত হয় ২০১৫ সালে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে পাঠদান এবং একটি কক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক ক্লাস বারান্দা কিংবা মাঠের পাশে অস্থায়ী টিনের ছাউনির নিচে নেওয়া হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক প্রমা ঘোষ বলেন, “শ্রেণিকক্ষের অভাবে আমাদের বারান্দা কিংবা টিনের ছাউনির নিচে ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়। বৃষ্টি বা ঝড়ের সময় অনেক সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়।”

বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। ফলে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের পাশাপাশি গবাদিপশু মাঠে ঢুকে পরিবেশ নষ্ট করছে। এছাড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত ও আধুনিক ওয়াশ ব্লকেরও অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য আলাদা ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট না থাকায় তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “মেয়েদের জন্য উপযুক্ত টয়লেট না থাকায় অনেক ছাত্রী নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না।”

প্রতিবন্ধীবান্ধব কোনো অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানায় শিক্ষার্থী তুলি দেবনাথ।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা বলেন, “মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোপাল দাশ বলেন, “মহাকবির স্মৃতিধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পেরে গর্ববোধ করি। কিন্তু ভালো পরিবেশ না থাকায় আমরা হতাশ।”

প্রধান শিক্ষক শিবশংকর রায় জানান, বিদ্যালয়ের জন্য একটি বহুতল ভবন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, খুলনার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বলেন, “আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। ভবনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখীকরণ, সীমানা প্রাচীর, আধুনিক ওয়াশ ব্লক এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে