দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“পাইকগাছায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ, তদন্তের উদ্যোগ”

29

পাইকগাছা (খুলনা) :

খুলনার পাইকগাছায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে জমির দখল ফিরে পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জিএম কামরুজ্জামান। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গড়ইখালী গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আহমদ গাজীর ছেলে জিএম কামরুজ্জামান ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে পাঁচটি পৃথক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে গড়ইখালী মৌজার বিভিন্ন দাগে মোট ১ একর ৯৭ শতক জমি ক্রয় করেন। এসব জমির মধ্যে ৪৮৯ দাগের ১৫ শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশী মৃত মতিউর রহমান গাজীর ছেলে জিল্লুর রহমান ও তার ছেলে সাইবুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

জিএম কামরুজ্জামানের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি তাদের বিক্রেতাদের নামে বিআরএস রেকর্ডভুক্ত এবং তারাই বৈধ মালিক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে নালিশি ১৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের একটি বায়নাপত্রের ভিত্তিতে আদালতে মামলা করে ২০২৪ সালে একটি ডিক্রি লাভ করে। ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে তিনি ২০২৬ সালে পাইকগাছা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-১১৮/২০২৬) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ২০১০ সালে ফরিদা বেগম, রশীদ গাজী, মাসুদ গাজী ও আমেনা বিবির কাছ থেকে ১৫ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করছেন। আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তিনি জমির অধিকার পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিএম কামরুজ্জামান বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয় আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।