দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে র‍্যাব ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

রমজানে ভেজাল দুধের কারবার

199

কেশবপুর( যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নর পাথরঘাটা গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর যৌথ অভিযানে ভেজাল দুধ তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সোমবার (৯ মার্চ) সাকালে পরিচালিত এই অভিযানে ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা ঘোষপাড়ায় একটি চক্র গরুর দুধে জেলি, তেল ও সোডা মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে বিক্রি করে আসছিল। ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয় এবং জনসম্মুখে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন রেকসোনা খাতুন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কেশবপুর উপজেলা। তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পাঁচজনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং আরেকজনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, অরুপ ঘোষ (পিতা: স্বপন ঘোষ), রামপ্রসাদ ঘোষ (পিতা: রবিন ঘোষ), বুদ্ধদেব ঘোষ (পিতা: রবিন ঘোষ), মিলন ঘোষ (পিতা: মনিন্দ্রনাথ) ও স্বপন ঘোষ (পিতা: সুধিব ঘোষ)। তাদের প্রত্যেককে ১ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পার্থ ঘোষ (পিতা: সঞ্জয় ঘোষ)কে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা কার্যালয়ের ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, দুধ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দুধ ও দুধজাত পণ্যের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। এ সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, রমজান সংযম, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই পবিত্র মাসেও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের অভিযানে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধে জেলি, তেল ও সোডা মেশালে তা মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এতে হজমজনিত সমস্যা, কিডনি ও লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো অত্যন্ত জরুরি।

পবিত্র রমজানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।