দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ফাদার রিগনের কাছে ঋনী…..মোংলায় ফাদার রিগন স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা

11
মোংলা প্রতিনিধি :সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ফাদার মারিনো রিগনের কাছে ঋণী। ফাদার রিগনকে বাদ দিয়ে মোংলাকে ভাবা যায়না। পঞ্চাশের দশকে ফাদার রিগন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে স্কুলে আসার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। ফাদার রিগন না আসলে অনেককেই অন্ধকারে থাকতে হতো। বৃহস্পতিবার সকালে ফাদার মারিনো রিগনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধি চত্বরে স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্ট পল্স ক্যাথলিক চার্চ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, হলদিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সেবা সংস্থা এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফাদার রিগন স্মরণানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’র সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সেন্ট পল্স ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল, সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ, মোংলা সরকারি কলেজের প্রভাষক শ্যামা প্রসাদ সেন, বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, সহকারি পালক পুরোহিত রিপন সরদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্র নাথ হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র  নিশিকান্ত বিশ্বাস, সার্ভিস বাংলাদেশ’র মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সেবা সংস্থার মিনা হালদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, শিল্পকলা একাডেমির মোল্লা আল মামুন, ইয়ুথ লিডার মেহেদী হাসান, পরিবেশকর্মী কমলা সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফাদার মারিনো রিগন এই সুন্দরবন উপকূলে মানব ও প্রকৃতির মুক্তি এবং উন্নয়নের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। কেবল মানব সেবায় করেননি, তিনি গভীরভাবে এদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রেমে পড়ে যান।
মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, ফাদার মারিনো রিগনের মস্তকে রবীন্দ্রনাথ এবং অন্তরে ছিলো লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাস্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফাদার রিগন রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং লালন সাঁইয়ের সাড়ে তিনশো গান ইতালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। তিনি লালন সঙ্গীতের মাঝে ঐশ্বরিক অনুভূতি খুঁজে পেয়েছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মোংলা অঞ্চলে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পল্স স্কুল , হাসপাতাল ও সেলাই শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে ফাদার রিগন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ফাদার মারিনো রিগন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম অবদান রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশে ফাদার মারিনো রিগন নানা বিষয়ে অনন্য অবদান রাখায় তাঁকে সম্মানসূক নাগরিকত্ব প্রদান ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্মরণানুষ্ঠানে ফাদার রিগনের জন্মদিন উপলক্ষে কেককাটা হয়। এছাড়াও ফাদার রিগনের সমাধিতে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ও সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং কেককাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। #