দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা: শিল্পাঞ্চল কর্মচাঞ্চল্য

26

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, কর্মবিরতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থার পর দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে অবশেষে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। ছুটি ও সাময়িক স্থগিতাদেশ শেষে রোববার সকাল থেকেই নিজ নিজ কারখানায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বিক্ষোভের কারণে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর ফটক পুনরায় খুলে দেওয়ায় শিল্প এলাকাগুলোতে ফিরে এসেছে চিরচেনা ব্যস্ততা। সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার সকালে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার এবং রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকা ঘুরে দেখা যায় শ্রমিকদের কাজে ফেরার নানামুখী ছবি।

সকাল থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার প্রধান ফটকে শ্রমিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অন্য যেকোনো স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই শ্রমিকেরা কার্ড পাঞ্চ করে কারখানায় প্রবেশ করেন। ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক।
সাভার ও আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো, বাইপাইল, নিশ্চিন্তপুর, কাঠগড়া ও শিমুলিয়া এলাকার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে রোববার থেকে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। কারখানার অভ্যন্তরে সুইং ও কাটিং সেকশনে সকাল থেকেই কাজ চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে।

সরেজমিন দেখা যায়, আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি ও সতর্ক অবস্থান ছিল। নিয়মিত সময়ে (সকাল ৮টা) কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। এখানকার পোশাক কারখানাগুলোতে ফিরেছে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জেও গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট কাঠেরপুল এলাকায় পরিস্থিতি আগের মতোই ছিল স্বাভাবিক। ফলে এদিন সকাল থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

‘আন্দোলন আর কাজ বন্ধ থাকলে আমাদেরই দিন শেষে কষ্ট হয়। পরিবার নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। আমরা চাই কারখানা চালু থাকুক, পরিবেশ শান্ত থাকুক। তবে সেই সাথে আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও সুযোগ-সুবিধার দিকেও যেন মালিকপক্ষ নজর দেন’, বলছিলেন আশুলিয়ার এক সাধারণ পোশাকশ্রমিক।

নতুন করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অস্থিরতা তৈরি হতে না পারে, সে জন্য শিল্পাঞ্চলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহাসড়ক, শিল্পাঞ্চলের সংবেদনশীল পয়েন্ট এবং কারখানাগুলোর আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর; নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা এলাকায় বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৩ প্লাটুন বিজিবি এবং ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন বলেন, সকাল থেকেই পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। সব কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরায় শুধু শ্রমিক বা মালিকপক্ষই নয়, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ বাসিন্দারাও। টানা কয়েক দিনের অস্থিরতায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে শুরু করেছে। শিল্প খাতের এই চাকা সচল রাখতে মালিকপক্ষ, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ এবং স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।