দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও বিষ বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

31

মোংলা :

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও বিষ সরবরাহকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল শেখ, তাঁর স্ত্রী লাইজু বেগম এবং বিষ বিক্রেতা মো. সেলিম মিয়া। তাঁদের মধ্যে সোহেল ও লাইজুর বিরুদ্ধে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খালে এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের জোংড়া টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে টহল দেওয়ার সময় খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি নৌকা জব্দ করতে যান। এ সময় কয়েকজন তাঁর দলের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান ও নৌকার চালক মো. এরশাদ আলী আহত হন।

এ ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল শেখ, তাঁর স্ত্রী লাইজু বেগম, ইউনুস আলী ও নূপুর খীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন। তাঁদের সবার বাড়ি মোংলার জয়মনি এলাকায়। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল ও লাইজুকে গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী সেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দোকান থেকেই মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত বিষ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে তিনজনকে দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বনকর্মীদের ওপর হামলা ও সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনার পর পুলিশ ও বন বিভাগ এ বিষয়ে তৎপরতা জোরদার করে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষ বিক্রি ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করা হয়েছে। সুন্দরবনে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।