দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বনদস্যুর আতঙ্কে সংকটে বনজীবীরা, সুন্দরবন সুরক্ষায় কয়রায় মানববন্ধন বুধবার  

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন, বনজীবীদের নিরাপত্তা ও দস্যুদের সহযোগীদের শাস্তির দাবি

30
কয়রা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দস্যুদের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান এবং নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ তৈরির দাবিতে খুলনার কয়রায় মানববন্ধনের আয়োজন করেছে উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন। আগামী ৪ নভেম্বর (বুধবার) বিকেল ৩টায় কাশিয়াবাদ ফরেস্ট অফিসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের বৃহত্তর অংশ কয়রা উপজেলায় অবস্থিত। এ অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালী সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাছ, কাঁকড়া, মধুসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে তাঁদের পরিবার-পরিজনের জীবন চলে। কিন্তু বনদস্যুদের আতঙ্ক ও অপতৎপরতার কারণে অনেক বনজীবী নির্বিঘ্নে সুন্দরবনে যেতে পারছেন না। এতে তাঁরা জীবিকা সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি প্রদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দস্যুদের সহযোগীদের শাস্তির দাবিতে কয়রা থেকেই জোরালো আওয়াজ তোলা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদারের দাবি জানানো হবে।
তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, এ দাবি কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংগঠনের নয়; এটি সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার দাবি। সুন্দরবনকে নিরাপদ করতে সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে এ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, মানববন্ধন সফল করতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। তিনি স্ব স্ব সংগঠনের ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে একাত্মতা প্রকাশের অনুরোধ জানান।
সাইফুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন সফল করতে দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, সুন্দরবন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই। জলদস্যুমুক্ত নিরাপদ সুন্দরবন গড়ার আন্দোলনে শামিল হই। আপনাদের উপস্থিতিই আমাদের আন্দোলনের শক্তি।”
উল্লেখ্য, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি কয়রার বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। উপকূলীয় মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণেও কাজ করছে সংগঠনটি।