দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় খুলনা

উৎসবের আমেজে সাজছে নগরী-নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

6

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনায় বইছে উৎসবের হাওয়া। নগরজুড়ে সাজ সাজ রব। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিভিন্ন স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে চলছে প্রস্তুতি। অন্যদিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ। প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর সফরকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে খুলনাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও নির্ধারিত কর্মসূচি সফল করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো গ্রহণ করেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিনই চলছে দফায় দফায় মিটিং, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। নেতাদের মূল লক্ষ্য, অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ না করে পুরো পথজুড়ে ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলার এক অনুপম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। প্রিয় নেতাকে রাজকীয় বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুলনাবাসী।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর দুপুর ২টার পর বাগেরহাট সফর শেষে খুলনায় প্রবেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা খুলনায় অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত সফরকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি চলছে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে। সেখানে তৈরি করা হচ্ছে অনুষ্ঠানের মঞ্চ। সাজানো হচ্ছে অনুষ্ঠানস্থল। সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। দফায় দফায় চলছে পরিদর্শন, যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। অনুষ্ঠানস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত, অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতি এবং কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।

তবে এই সফরকে ঘিরে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, খুলনাবাসীর প্রত্যাশার জায়গাতেও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে রয়েছে আগ্রহ। নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের সামনে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

জেলা যব দলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান জনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। রাজনৈতিক মত-পথের ভিন্নতা ছাপিয়ে সফরটি যেন শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি শেষ হবে, এমন প্রত্যাশাই আমাদের।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএর চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহনগর যুব দলের আহবায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, জেলা যব দলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান জনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইস্তিয়াক আহম্মেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ওই দিন খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে। দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন (প্রথম আসরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার)। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ৪,৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এই বিশাল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন অপেক্ষা ৫ নভেম্বরের। প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের আয়োজন এবং খুলনার সার্বিক পরিবেশ, সব মিলিয়ে দিনটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নগরীর জন্য বয়ে আনবে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক বার্তা।