খুলনার দাকোপ উপজেলার ৭নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন। নদী, খাল, দুর্যোগ আর সংগ্রামের সঙ্গে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার দীর্ঘ সম্পর্ক। এই জনপদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন মঈনুর রহমান মঈন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিনের ছাত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন রাজনৈতিক কর্মী।
মঈনুর রহমান মঈনের রাজনৈতিক পরিচয়ের শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরও রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। তাঁর পিতা মইজদ্দীন সরদার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তিনি তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দাকোপ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
এই রাজনৈতিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠা মঈনুর রহমান মঈন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, খুলনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতির মাঠে পথচলা
মঈনের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনায় আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উঠে আসে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের শিকারও হয়েছেন তিনি।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও মঈনুর রহমান মঈন নিজেকে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ওই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
এই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তিনি তুলে ধরছেন। আন্দোলন, সংঘাত এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে একজন কর্মীর ব্যক্তিগত জীবনে যে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তাঁর বক্তব্যে তারই একটি চিত্র পাওয়া যায়।
দুর্যোগপ্রবণ জনপদের মানুষের পাশে
দাকোপের তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকার অংশ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও অন্যান্য দুর্যোগ এখানকার মানুষের জীবনে নিয়মিত বাস্তবতা।
তিনি বিভিন্ন দুর্যোগের সময়ে স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড আজও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
৫ আগস্টের পর তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেও নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।
৭তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মঈনুর রহমান মঈন জানিয়েছেন, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নকে একটি নিরাপদ, দুর্যোগ সহনশীল ও আধুনিক ইউনিয়নে রূপান্তর করাই তার মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে নিরাপদ ভেড়িবাধ নির্মাণ, দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকার উদ্যোগ, কৃষি ও মৎস্যক্ষেত উন্নয়ন সেবার নিশ্চয়তা প্রদানে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মইনুর রহমান মইন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত সাবেক যুব ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক যুব প্রধান এবং বর্তমানে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন বাসীর কাছে দোয়া,সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি উন্নত সেবামুখী ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে তিনি কাজ করতে চান।
শিক্ষা ও পেশাগত পরিচয়
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও মঈনুর রহমান মঈনের উচ্চশিক্ষার পরিচয় রয়েছে। তিনি সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১১ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে খুলনা সিটি ল কলেজ থেকে এল.এল.বি. সম্পন্ন করেন।
সামনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা
৭নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মঈনুর রহমান মঈনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য, ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের পাশে থাকা।
তাঁর রাজনৈতিক পথচলার মূল্যায়ন করতে হলে একদিকে যেমন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় আসবে, অন্যদিকে তাঁর জনসম্পৃক্ততা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, অতীত কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একজন প্রার্থীর জীবনের সংগ্রামের গল্প কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের গল্প নয়, এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং জনজীবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেরও প্রতিচ্ছবি। মঈনুর রহমান মঈনের ক্ষেত্রেও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
তিলডাঙ্গার মানুষের কাছে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা। কে কীভাবে মানুষের পাশে ছিলেন, কী কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে ইউনিয়নের মানুষের জন্য কী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক ভূমিকা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়। এ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ চায়, এলাকার উন্নয়ন, টেকসঁই বেড়ি বাঁধ এবং সমস্যা জানানোর আস্থাভাজন। যার থাকবে সকল অঙ্গনে বিচরণ। আর সে দিক থেকে ৭নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মঈনুর রহমান মঈনের জনপ্রিয়তা এখন শীর্ষে।