ঢাকা:
শের রেল যোগাযোগে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুরের প্রায় ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বা ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ২০৩১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সেটে থাকবে পাঁচটি করে কোচ। পাশাপাশি ইএমইউ ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক মেরামত কারখানাও নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু হলে ট্রেন পরিচালনায় ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতিও বাড়তে পারে।
এদিকে একই একনেক সভায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়িত এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট (হেমায়েতপুর-ভাটারা) রয়েছে।
এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
দেশের রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সড়কপথের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক ট্রেন ও মেট্রোরেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।