দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ফুলতলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

40

ফুলতলা :

ফুলতলার গাওঘরা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই শিক্ষক।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফুলতলা মোড় মার্কেট চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফিরোজ হোসেন বলেন, গাওঘরা দাখিল মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এলাকার একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার উপজেলা চত্বরে কয়েকজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ইট বিক্রি, এতিমখানা ও জিআর চাল বিক্রিসহ বিভিন্ন মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য প্রচার করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের সুপার, সভাপতি ও বিক্রয় কমিটির মাধ্যমে ইট বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। মাদ্রাসার পুরাতন ভবন নিলাম হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ভবনটির আংশিক অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও স্থানীয় কয়েকজনের বাধার কারণে সেটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মাদ্রাসায় ২০১৫ সালে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে হিসাবসংক্রান্ত কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে এতিমখানার হিসাবে ৬ হাজার ৫০০ টাকা ঘাটতি রয়েছে, যার বিষয়ে সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানান।

ফিরোজ হোসেন আরও দাবি করেন, কিছু অসৎ ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিলেও তদন্ত শেষে সেগুলো খারিজ হয়ে যায়। এছাড়া মঙ্গলবার উপজেলা চত্বরে তাকে জড়িয়ে গাওঘরা গ্রামের বাহালুল গাজীর নেতৃত্বে মানববন্ধনে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দামোদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন, গাওঘরা ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন মোল্লা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সরদার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস মোল্লাসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

ফিরোজ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রকৃত অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।