দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাক্ষরতা হোক সমৃদ্ধির সোপান, কেশবপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

19

 কেশবপুর :

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, কেশবপুরের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম বিশ্বাস এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক।

সভায় আরও বক্তব্য দেন থানা তদন্ত পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বিশ্বাস এবং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন আলা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গঠনে সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও সাক্ষরতার মাধ্যমে মানুষ নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। মানুষের কল্যাণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই সমৃদ্ধির জন্য সবার মধ্যে সাক্ষরতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষার আওতায় এনে জীবনমুখী ও কার্যকর সাক্ষরতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সাক্ষরতার ধারণা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ সচেতনতা, জীবনদক্ষতা, আর্থিক জ্ঞান এবং পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও আধুনিক সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর ও জীবনমুখী সাক্ষরতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, সাক্ষরতার প্রসার মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। এ জন্য পরিবার, শিক্ষক, প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

অনুষ্ঠানে কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।