দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাইকগাছায় সংবাদ সম্মেলন: মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

49

পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের প্রতিবাদ করায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তা প্রত্যাহার এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী তনু জমাদ্দার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা গ্রামের রহমত জমাদ্দার, ইবাদুল গাজী ও টুটুল গংদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তনু জমাদ্দার দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাদক কেনাবেচা ও সেবন, চাঁদাবাজি এবং জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তনুর অভিযোগ, চলতি বছরের ৫ আগস্ট দুপুরে ইবাদুল, রহমত, আবুল দফাদার, বাদশা, হোসাইন, সুমন, তুহিন, টুটুল, হাবিব, শহিদ, আবু তালেব, আসিফ, শাহমত, বাদশা জমাদ্দার, সাইদুর জমাদ্দার, আব্দুল্লাহ, নাহিদ, আহসানসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চর মসজিদ মোড়ের একটি মুদি দোকানে হামলা চালান। এ সময় দোকানে থাকা নগদ এক লাখ টাকা এবং চাল, ডাল, চিনিসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীদের ভয়ে তিনি, নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন মসজিদের মুয়াজ্জিন নজরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেও হামলাকারীরা প্রবেশ করে মারধর করলে তানভীর নামে একজনের বাম হাত ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তারা নিজ বাড়িতে ফিরে গেলে সেখানেও দা, লাঠি, রড ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে দাবি করেন তনু।

এ ছাড়া ওই দিন বিকেলে পাইকগাছা থানায় মামলা করতে যাওয়ার সময় পৌরসভা চত্বরে তার বাবা নুর ইসলাম জমাদ্দার ও মা নাসিমা বেগমকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তনু জমাদ্দার বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর তাদের পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলাকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তিনি বলেন, মামলার কারণে এলাকার অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কেউ কেউ বাড়িছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলমতলা গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর জমাদ্দার, ফাতেমা বেগম, নাসিমা বেগম, তানভীর জমাদ্দার, বাবু জমাদ্দার ও তনু জমাদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত রহমত জমাদ্দার, ইবাদুল গাজী ও টুটুল গংদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।