দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মজুদদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড : আইনমন্ত্রী

20

মজুদদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তাই ভেবে মজুদ করবেন- বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাজার ও ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মজুদদারি ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সকল সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হন, আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছেন। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।

তিনি বলেন, কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল উৎপাদন করলেও ন্যায্য দাম পান না। বাজারে পণ্য নিয়ে আসার পর বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত তোলার কারণে কৃষক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত দুই কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপর আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারাও কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষককে ৪৫ কেজি দিতে হচ্ছে। এটা অনায্য।

বাজারের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সব হাট ও বাজারে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে কৃষকের কাছ থেকে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।

মজুতদারির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুদদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই যারা মজুতদারি করবেন, তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত তোলা ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সময় শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।