দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

গ্রেফতারের ৪ দিন আগেই দেশে আসেন ডেভিড ইমন, ফের পালাতে চেয়েছিলেন ভারতে

32

চট্টগ্রাম :

ভারত থেকে চার দিন আগে বাংলাদেশে প্রবেশের পর আবারও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বুধবার চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ইমনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। চার দিন আগে তিনি যশোর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে আবার ভারতে পালানোর চেষ্টা করলে সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে অবস্থানরত কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। গত দুই বছরে চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের দাবি, ইমনের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাও রয়েছে। এছাড়া একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহনে তিনি দক্ষ এবং বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ইমনের আরেক সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানকে গ্রেফতারে নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ইমন ও রায়হান নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতারের পর ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সীমান্ত পারাপারের কারণ, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।