দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সুন্দরবনের অলংকার বাঘ রক্ষা করা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ

35

মোংলা :

প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক সুন্দরবনের প্রধান অলংকার রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বাঘ রক্ষা করা বর্তমানে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনকে রক্ষা করা না গেলে কোনোভাবেই বাঘ সংরক্ষণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশকর্মী ও বক্তারা।

বুধবার সকালে মোংলার মিঠাখালী বাজারে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বাদাবন সংঘ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ।

আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, ১৯৩০-এর দশকে পূর্ব বাংলার ১৭টি জেলার মধ্যে ১১টি জেলায় বুনো বাঘের অস্তিত্ব ছিল। গত এক শতকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৯৩ শতাংশ বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে বিশ্বের ৩৩টি দেশে প্রায় এক লাখ বাঘের অস্তিত্ব থাকলেও বর্তমানে মাত্র আটটি দেশে বাঘের সংখ্যা প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধরার কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবক, ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিক শেখ রুস্তুম আলী, গোলাম রসুল, শাহ আলম শিপন, এম রেজাউল ইসলাম, পরিবেশকর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, ছাত্রনেতা মঈন গাজী ও আরাফাত দূর্জয় এবং পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাঘ চোরাচালানি চক্র সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র বাঘ হত্যা করে এর দেহাংশ বিদেশে পাচার করে থাকে। বাঘ চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, চোরাশিকার এবং সুন্দরবনের দূষণ বন্ধ করা না গেলে বাঘ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বাঘ সংরক্ষণে টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, বাঘ আমাদের শৌর্য-বীর্যের প্রতীক। সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব।

সমাজসেবক ও রাজনীতিক শেখ রুস্তুম আলী বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় নীতিনির্ধারকদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাঘ ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বাঘ এবং বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে। কোনোভাবেই দেশের অহংকার বাঘ ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না।

আলোচনা সভার আগে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি চাঁদপাই ও মিঠাখালী বাজারের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

এ ছাড়া বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিকেল ৪টায় মিঠাখালী মাঠে বাঘের মহড়া ও একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।