দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

32
সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা প্রায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪টি ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, এক হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬টি মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল (১০০ মিলি) ও ৬ বোতল (৫০ মিলি) এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছেন। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জাহান কনকসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার করা প্রাণঘাতী মাদক ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।