দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

শ্যামনগরে বিজিবি সদস্যের বাড়িতে চুরি, রাজনৈতিক তদবিরের অভিযোগ

39

সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার কাঁচড়াহাটি এলাকায় এক বিজিবি সদস্যের বাড়িতে সংঘটিত চুরির ঘটনায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন আসামিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক তদবির চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাবের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজার এলাকা থেকে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাহামীম সিকদারকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৬। পরে তাকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

থানাপুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তাকে শ্যামনগর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সন্দেহভাজন আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির চলছে। তাদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি আসামির পক্ষে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন, যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। তাই কোনো ধরনের প্রভাব বা তদবিরের ঊর্ধ্বে থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশে সন্দেহভাজন আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা তদবিরের সুযোগ নেই। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার বাদী বিজিবি সদস্য জি. এম. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৩১ মে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কালিগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে সন্ধ্যার দিকে দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির মূল ফটক ও ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

চোরেরা শয়নকক্ষের আলমারি ভেঙে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা, জনতা ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চোরদের শনাক্তের চেষ্টা করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু ফুটেজ ধারণ হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ৩ জুন বিজিবি সদস্য জি. এম. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।