দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কুয়েটে চুরি ও নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার চাকরি হারানোর গুঞ্জন

33

খুলনা ব্যুরো:

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ চুরি, আর্থিক অনিয়ম এবং নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ নিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণেই দীর্ঘদিনের নানা অনিয়মের অভিযোগগুলো এখন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ঐ দুই কর্মকর্তা হলেন: নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) সবুজ সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও ক্রয় কার্যক্রমে তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কম মূল্যের ও নিম্নমানের মালামাল বেশি দামে ক্রয় দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেছেন। এমনকি নিজেদের বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালামাল সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্য সরবরাহ, কাজ সম্পন্ন না করেও কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে তাদের প্রভাব ও বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের কার্যকর কোনো প্রতিকার হয়নি। ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সভা ও প্রশাসনিক বৈঠকে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পর্যালোচনা, অভিযোগ তদন্ত এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরি থেকে অপসারণসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কুয়েটে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।