পাইকগাছা (খুলনা):
খুলনার পাইকগাছায় প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শোধনাগার পৌর এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এতে মাত্র লিটারপ্রতি ১ টাকা ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পয়ঃবর্জ্য অপসারণ ও শোধন করা সম্ভব হবে।
উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট-শিববাটী সড়কের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের পাশে স্থাপিত শোধনাগারটি দাতা সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদের বাস্তবায়নে নির্মিত হয়েছে। এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে পাইকগাছা পৌরসভা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে শোধনাগারটিতে প্রায় ৬০ হাজার লিটার পয়ঃবর্জ্য শোধন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে পৌরসভায় মানববর্জ্য অপসারণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পয়ঃবর্জ্য খাল-বিল ও নদীতে গিয়ে পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করত। নতুন শোধনাগার চালুর ফলে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুমন সাহা জানান, ১৫ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার শোধনাগারটি জাপানি প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছে। পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহের জন্য ৫০০ ও ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি ভ্যাকুয়াম ট্যাংকার রয়েছে। সংগ্রহ করা বর্জ্য চার ধাপে পরিশোধনের পর নিরাপদ পানি হিসেবে নির্গত হয়।
তিনি আরও জানান, বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রতি লিটার মাত্র ১ টাকা খরচ হবে।
সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন শোধনাগারটি পরিদর্শন করে উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, আগে এলাকায় পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো আধুনিক ব্যবস্থা ছিল না। নতুন শোধনাগার চালুর ফলে স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য অপসারণ করা যাবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।