কেশবপুর (যশোর) :
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও স্বজনদের হাত ধোয়ার জন্য রাখা একটি বেসিন মেডিকেল বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলায় এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দায় থাকা একটি বেসিন ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ইনজেকশনের অ্যাম্পুল, স্যালাইনের প্লাস্টিক প্যাকেট এবং বিভিন্ন ওষুধের খালি কার্টনে ভরে রয়েছে। বর্জ্যের কারণে বেসিনের পানির কলও ঢেকে গেছে এবং এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশেই ডাস্টবিন থাকলেও সেখানে বর্জ্য ফেলা হয়নি।
রোগী ও স্বজনরা জানান, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এভাবে সংক্রামক মেডিকেল বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলে রাখা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ রোগীরা সংক্রমণের আশঙ্কায় রয়েছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম (৪৫) বলেন, “হাত ধোয়ার বেসিনে রক্তমাখা সিরিঞ্জ ও ওষুধের খোসা পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়েছি। হাসপাতাল যদি নোংরা থাকে, তাহলে রোগীরা সুস্থ হবে কীভাবে?”
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা না বুঝেই এসব স্পর্শ করতে পারে। এভাবে প্রকাশ্যে মেডিকেল বর্জ্য ফেলে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
নিয়মিত হাসপাতালে আসা আব্দুল মজিদ (৬৭) বলেন, “গরিব মানুষ বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু হাত ধোয়ার বেসিনকে ডাস্টবিন বানিয়ে রাখার দৃশ্য খুবই হতাশাজনক।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, বেসিনে মেডিকেল বর্জ্য ফেলে রাখা স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেসিন দ্রুত পরিষ্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।