দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে সংলাপ

19
সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন’ বিষয়ক এক সংলাপ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে শহরের টাইগার প্লাস হোটেলের হলরুমে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘স্বদেশ’-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধনী ঘোষণা করেন সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সমন্বয়ক মো. রোকনুজ্জামান এবং সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি।

‘এনগেজডনাউ’ প্রকল্পের আওতায় এবং ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় আয়োজিত এই দিনব্যাপী কর্মশালায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এসময় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক এম. কামরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দিলু, নাজমুন্নাহার ঝুমুর, সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সারোয়ার, রঘুনাথ খাঁ, আমিনা বিলকিস ময়না, জেলা নাগরিক কমিটির আলী নুর খান বাবুল, জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সাকিবুর রহমান বাবলা, শিক্ষক শেখ আশরাফুর রহমান ও মোমিনুল ইসলামসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধবচন্দ্র দত্ত।

সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও সামাজিক কর্মীরা নানা ধরনের ঝুঁকি, হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা কর্মীরা প্রায়ই নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ‘মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন সময়ের দাবি।

বক্তারা আরও বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নাগরিক অধিকারের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এজন্য সরকার, আইন প্রণেতা, মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

সংলাপ শেষে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। বক্তারা মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।