রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের ধাপে ধাপে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলেও নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়েছে। ফলে আপিলের মাধ্যমে কোনো স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থা আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটির নতুন রোগী ভর্তি বা পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা আইনগতভাবে বৈধ নয়।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মানবিক দিক বিবেচনায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে এবং তাদের বিকল্প হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও দ্রুত আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক থেকে দুই দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তারা পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্তে ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে গুরুতর অবহেলার চিত্র উঠে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রথমে ৭ জুনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে আবেদনের প্রেক্ষিতে সময়সীমা ৯ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোগীদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপও চলমান রয়েছে।