দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“কেশবপুরে রহস্যজনকভাবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ”

59

কেশবপুর (যশোর) :

যশোরের কেশবপুরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া ইয়াসমিন তৃষা (১৫)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার বাগদহ গ্রামের আলমগীর হোসেনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি শয়নকক্ষ থেকে তৃষার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরদিন (১ জুলাই) সকালে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে রাজিদুর রহমান নিশান (২১) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তৃষাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন নিশান ঘরে প্রবেশ করে তৃষার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। পরে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের আরও অভিযোগ, যাওয়ার সময় তৃষার গলায় থাকা সোনার চেইন ও একটি আংটিও নিয়ে যায় অভিযুক্ত।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের ২ মে তৃষার বাবা আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে নিশানসহ আটজনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি মামলা হয়েছিল। পরে পুলিশ ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, “চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাসহ আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি একই সূত্রে গাঁথা। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে।”

অভিযুক্ত নিশান পলাতক থাকায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, “স্কুলছাত্রী তৃষার মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।