দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন করবে সরকার

26

প্রতিবেদন:
ঢাকা প্রতিনিধি | দৈনিক খুলনা

হতদরিদ্র এতিম শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণে রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর দুর্বলতা দূর করে এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতার হার বৃদ্ধি এবং উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভাতা বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বেসরকারি খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে এবং মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন এবং পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর দুর্বলতা দূর করে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একাধিক বৃদ্ধ ও একাকী মানুষের মৃত্যুর ঘটনা জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনার পর ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবায়ন ঘাটতির কারণে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।