দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

হঠাৎ পশু খাদ্যের দোকানে প্রশাসনের অ্যাকশন, অতঃপর…

35

নওগাঁ শহরে লাইসেন্সবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে ৭টি পশু খাদ্যের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে নগদ জরিমানা এবং অপর ২টি প্রতিষ্ঠানকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলার ধর্মতলা রোড ও আটাপট্টি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওগাঁ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রাণিসম্পদ ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন পশু খাদ্য ও ফিডের দোকানে এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে দেখা যায়, অনেক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স নবায়ন না করেই পশুখাদ্য ও মুরগির খাবার বিক্রি করছিলেন। আইন অমান্য করায় ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১২ হাজার জরিমানা করা হয়। শ্রী রতন লাল চৌধুরীকে ১৫০০ টাকা, সরদার টেডার্সকে ২০০০ টাকা, আলহাজ্ব ফিড অ্যান্ড চিকেন সেন্টারকে ৪০০০ টাকা, মেসার্স জে এস এন্টারপ্রাইজকে ১৫০০ টাকা এবং ময়েজ পোল্ট্রি ফিডকে ৩০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

এছাড়াও অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জনি সাহা এবং দ্বিপ খাদ্য ভাণ্ডার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে নিয়মের বাইরে না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

 

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানান, যে-সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল না, তাদেরকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স নবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজারে পশুখাদ্য ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্য নিয়ে যাতে কোনো ধরনের কারসাজি না হয়, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় না করার জন্য কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে যেমন শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, তেমনি খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা অতিরিক্ত দামের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আমিনুল ইসলাম সহ প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।