দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির ভিডিও ভাইরাল: এআই দাবির পর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি

46

সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর দলীয় মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স ভিডিওটি এডিটেড বা এআই-নির্মিত নয় বলে দাবি করেছে।

প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে ২০২৩ সালের ১ জুলাইয়ের তারিখ দেখা গেলেও, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম পরবর্তীতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, তিনি চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মোছা. মরিয়াম বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেছেন।

এদিকে, ভিডিওতে থাকা নারীকে এমপি ও জেলা জামায়াত নেতারা দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার অফিসে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তিনি ঘটনাটিকে ব্ল্যাকমেইল ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হয়।

তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স তাদের অনুসন্ধানে জানায়, ভিডিওটি এআই বা সম্পাদিত নয় বলে তাদের বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ভিডিওর সিসিটিভি টাইমস্ট্যাম্পে ২০২৩ সালের ১ জুলাইয়ের তারিখ দেখা যাওয়ার তথ্যও উল্লেখ করে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, নির্বাচনী হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর তথ্য না থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনো আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।