দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন

28

নওগাঁ প্রতিনিধি | দৈনিক খুলনা

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গাহলী বাজারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং হাতুড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দখলবাজি চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, ফসল নষ্ট, পুকুরের মাছ লুটপাট এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে মানববন্ধন করে বিষয়টি তুলে ধরতে হয়েছে।

মানববন্ধনে মহিষবাথান সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বানু অভিযোগ করেন, আব্দুল মতিন মণ্ডল ও তার ভাই তার বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়, ঘরের মালামাল লুটপাট করা হয় এবং বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়। পরে জমি দখল করে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চককৃষ্ণপুর গ্রামের হুমায়ূন আহমেদ অভিযোগ করেন, তার পুকুরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ছিল। এক রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরের মাছ তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

অপর ভুক্তভোগী কফিল উদ্দিন মণ্ডল দাবি করেন, ভুয়া দানপত্রের মাধ্যমে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি জমিতে থাকা প্রায় ২০০টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয় এবং জমি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আব্দুল মতিন মণ্ডলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।