দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বিশ্বে বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই: প্রেসিডেন্ট

26

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে হানাহানি ও সংঘাত চললেও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ সম্প্রীতি অটুট রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে অপপ্রচার ও অপব্যাখ্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে।

দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অসুরের বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্তা এ উৎসবের অন্যতম দর্শন। অতীতেও বাংলাদেশে অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে এবং এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পরাজিত করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসুরের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট ও অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে মিশতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রীয় নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতার কারণে সবাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজারো মানুষের সঙ্গে পূজামণ্ডপে আসতে পারলে আরও ভালো লাগত।

ভবিষ্যতে পূজা উদযাপনে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও স্বাভাবিক ও সহজ করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত, যেখানে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে অতিরিক্ত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন প্রেসিডেন্ট। বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন।