দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বৈঠকে দিল্লি গেলেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারসহ ১০ কর্মকর্তা

30

বেনাপোল :

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে অংশ নিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি গেছে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রতিনিধি দলটি ঢাকা ছাড়ে। ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার। বৈঠক শেষে ১০ অক্টোবরের দিকে প্রতিনিধি দলের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার আব্দুল হাকিম।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামীম আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারহানা ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান মামুন-উর-রশিদ আসকারী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) বাকী বিল্লাহ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেরিনা সুলতানা এবং বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ।

প্রায় তিন বছর পর দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ১৫তম বৈঠকটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা ও বিধিনিষেধ তৈরি হওয়ায় নিয়মিত বৈঠকের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়।

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, বেনাপোলসহ স্থলবন্দরের কার্যক্রম, আমদানি-রপ্তানিতে পণ্য চলাচল, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি রেলে পণ্য পরিবহন ও দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক পণ্য চলাচল নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকের আলোচনায় স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, রেলে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বেনাপোল-পেট্রাপোল সমন্বিত চেকপোস্টের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের এ সফরের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের বাণিজ্যিক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।