দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাটকেলঘাটায় প্রধান শিক্ষক অসীম দাসের বিরুদ্ধে সরকারি পরিপত্র পরিপন্থী প্যানেল পাঠানোর অভিযোগ

30

পাটকেলঘাটা :

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষক নন—এমন তিন ব্যক্তিকে ‘শিক্ষক’ পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করে প্যানেল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্যানেলে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত পেশা ও কর্মস্থল যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের একজন আজীবন দাতা সদস্য।

অভিযোগকারী আ.আ.ম. একরামুল হক (আসাদ) এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তিনজনের নামের একটি প্যানেল তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। ওই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে প্যানেলে থাকা বুলবুল হোসাইনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি পূর্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, ঢাকায় সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কোনো বিদ্যালয় বা কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নন এবং প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা নন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

দ্বিতীয় ব্যক্তি মো. জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনিও বর্তমানে কোনো স্বীকৃত বিদ্যালয়, কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নন। অথচ তাঁর নামের সঙ্গে শিক্ষক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অন্যদিকে প্যানেলে থাকা জিএম আল মামুন সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ঢাকা তিতুমীর কলেজের একজন শিক্ষার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অভিযোগকারীর দাবি, তিনিও কোনো বিদ্যালয় বা কলেজে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত নন।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে বর্তমানে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামের পাশে ‘শিক্ষক’ পরিচয় সংযুক্ত করে আহ্বায়ক কমিটির মনোনয়নের জন্য প্যানেল প্রস্তুত ও প্রেরণ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্যানেলটি প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাশের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর হয়ে শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছেছে। ফলে প্যানেলে ব্যবহৃত পরিচয় ও তথ্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।

লিখিত অভিযোগে প্যানেলে থাকা তিন ব্যক্তির প্রকৃত পেশা ও কর্মস্থল যাচাই, তাঁদের নামের পাশে ‘শিক্ষক’ পরিচয় কীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে তা তদন্ত, প্যানেল প্রেরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও প্রত্যয়ন যাচাই এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী আ.আ.ম. একরামুল হক (আসাদ) বলেন, “বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা পেশা সম্পর্কে ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত প্যানেলের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তও জানা যায়নি।

বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, সুশাসন ও কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিযোগটির যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।