পাইকগাছা :
‘গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে খুলনার উপকূলীয় সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে ‘সিরাতুল হুদা ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ও শনিবার পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এর আওতায় সোলাদানা, লতা, দেলুটি, গড়ুইখালী, গদাইপুর, কপিলমুনি, হরিঢালী ও রাড়ুলীয়া ইউনিয়নের সরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাতুল হুদা ট্রাস্টের ট্রেজারার এস এম হাসানুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিয়ত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অন্যতম কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়। পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের পাইকগাছা উপজেলা সভাপতি তামিম রায়হান বলেন, গাছ শুধু অক্সিজেনের জোগান দেয় না, প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেও উপকূলকে ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে নেওয়া এ উদ্যোগে সার্বিক অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক পরিচালক এবং সিরাতুল হুদা ট্রাস্ট ও শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেজর মো. মেসবাহুল ইসলাম (অব.)। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব মো. ইকবাল হোসেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সোলাদানা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ নুরী আলম সিদ্দিকী, প্রধান শিক্ষক মো. শামীম হোসেন, সাবেক শিক্ষক আব্দুল গফুর বিশ্বাস, মো. জাকির হোসেন শাহীন, মাওলানা আব্দুল গফফার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সোলাদানা ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সোলাদানা ইউনিয়ন সহসভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন সভাপতি কাজী আসাবুর রহমান, ইউনিয়ন বায়তুল মাল সম্পাদক মো. সোহাগ হোসাইন, মো. তুরজাউল হোসেন ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. আজিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শুধু সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।