দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

নারীকে জিম্মি করে ছিনতাই, গোয়েন্দা জালে ধরা ছিনতাইকারীরা

25

ভোরের অন্ধকারে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ফাতেমা আক্তার। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি। তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মুঠোফোন। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিন দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে। তাদের দেয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিয়া নূর।

পুলিশ জানায়, গত ৫ নভেম্বর ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় তার ভাই মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার পর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিদ হোসেন ওরফে কেলা জাহিদ (২১) ও রাব্বি হোসেনকে (২৪)। তারা দুজনই চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা।

পরে ৭ নভেম্বর ভোরে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মাইজকান্দি ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিদ ওরফে গরু জাহিদকে (২১)। তিনি এক আসামির বোনের শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জাহিদ ওরফে গরু জাহিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর বড় স্টেশনের বরফকল ভিআইপি ঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ঘাটের সিঁড়ির নিচে ও নদীর পন্টুনের সুড়ঙ্গ থেকে তার দেখিয়ে দেয়া স্থানেই লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনি নিজ হাতে সেগুলো বের করে দেন।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে সাতটি চেইন, পাঁচটি আংটি, চার জোড়া কানের দুল, দুটি রুলি, একটি গলার হার ও একটি ব্রেসলেট। সব মিলিয়ে স্বর্ণালংকারের ওজন ১৮ ভরি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর বলেন, এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে ছিনতাই হওয়া ১৯ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ১৮ ভরি উদ্ধার হলেও বাকি এক ভরি স্বর্ণালংকার, এক লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ৪৮ হাজার টাকা এবং তিনটি মুঠোফোনের মধ্যে দুটি উদ্ধারের তথ্য প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়নি।