দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

দুর্গাপূজার আগমনী বার্তায় সরগরম কয়রা, ৫৭ মণ্ডপে প্রস্তুতি শেষের পথে

21

 কয়রা :

মাটির কাঠামোয় লেগেছে রঙের ছোঁয়া, প্রতিমার চোখে ফুটে উঠছে প্রাণ। কোথাও চলছে শেষ তুলির আঁচড়, আবার কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকরা। শারদীয় দুর্গাপূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উৎসবের আমেজে সরগরম হয়ে উঠছে খুলনার কয়রা।

ইতোমধ্যে উপজেলার ৫৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কয়রা সদরসহ উপজেলার ৬ নম্বর কয়রা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, শ্রী শ্রী গোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, ৬ নম্বর কয়রা পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মঠবাড়ী খড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দশহালিয়া দুর্গা মন্দির ও আমাদী বাজার দুর্গা মন্দিরসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কোথাও প্রতিমার চোখ-মুখে শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও চলছে পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজ। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে পূজার আগমনী বার্তায় মুখর হয়ে উঠেছে কয়রা।

প্রতিমাশিল্পী নিশিকান্ত গাইন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রং-তুলির কাজের মাধ্যমে প্রতিমা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বিশেষ করে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও অলংকারের কাজে অনেক সময় ও যত্ন প্রয়োজন। পূজা যত ঘনিয়ে আসে, তাদের ব্যস্ততাও তত বাড়ে।

শুধু প্রতিমাশিল্পীরাই নন, পূজামণ্ডপ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে আয়োজকদেরও। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূজার অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন তারা।

কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী বলেন, এবার কয়রা উপজেলায় ৫৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন মণ্ডপের সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের আশা করছেন তারা।

প্রতিমার রং ও শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ দেখতে মণ্ডপে আসছেন দর্শনার্থীরাও। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের আগ্রহ। উৎসবকে ঘিরে নতুন পোশাক, কেনাকাটা ও নানা প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

৬ নম্বর কয়রা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অশোক মণ্ডল বলেন, প্রতিবছরই তারা দুর্গাপূজার জন্য অপেক্ষা করেন। এবারও প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে মণ্ডপ সাজানোর কাজ দেখে ভালো লাগছে। সবাই মিলে আনন্দ-উৎসব উদযাপন করাই তাদের প্রত্যাশা।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ-আল বাকী বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সবাই যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।