দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

দাকোপে ৮১টি দূর্গা পূর্জামন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা 

29

দাকোপ খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার দাকোপ উপজেলায় শারদীয় দূর্গাপূজার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। ‍বছর ঘুরে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দাকোপ উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।পূজা মন্ডব গুলিতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্তসময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা।

বেশিরভাগ জায়গায় প্রতিমা গড়া শেষ, চলছে রঙের কাজ। দাকোপ  উপজেলায় এ বছর ৮১ টি  মণ্ডপে পালিত হবে দুর্গা উৎসব। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষে থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ  ও পূজা উদযাপন  ফ্রন্ট এর নেতারা   মন্দির কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা।আগামী ৮ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

১২ অক্টোবর দশমীতে বিসর্জন ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাৎসব। এদিকে বছর ঘুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে বেড়েছে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা। অপরদিকে পূজা মণ্ডপ ঘিরে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা  প্রশাসন।

প্রতিমা শিল্পি বিশ্বজিৎ মন্ডল  সাংবাদিক কে বলেন, আমরা চুনকুড়ি পাড়া শ্রী শ্রী দূগা মন্দিরের প্রতিমাগুলো নতুন করে রং ও তুলির আঁচড় দিয়ে সাজিয়ে তুলছি। আগে ৩০/৪০ হাজার টাকায় পুরো প্রতিমা তৈরি করা থেকে সাজানো পর্যন্ত খরচ হত।

এখন মালামালের দাম বৃদ্ধি ,শিল্পিদের পারিশ্রমিক বাড়ার কারণে খরচ প্রায় দিগুণ। তবুও এ কাজ আমাদের করতেই হবে কারণ এটা আমাদের ধর্মীয় রীতিনীতি। শেষ মুহূর্তে দেবীকে পড়ানো হবে পোশাক-পরিচ্ছেদসহ অন্যান্য আল্পনা।

এদিকে দাকোপ উপজেলা  জেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি  গোবিন্দ বিশ্বাস   জানান প্রতিবারের নেয় এবারও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপজেলায় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই পূজা উপলক্ষে আমরা সার্বক্ষণিক মন্দির গুলো মনিটরিং করছি। সেই সাথে সকলের সহযোগিতা নিয়ে উপজেলা বাসিকে একটি সুন্দর পূজা উপহার দেয়ার জন্য আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি।

পাইকগাছা  থেকে সেবাহীত হিসেবে আশা মনোহর চন্দ্র মন্ডল সাংবাদিক কে বলেন, পঞ্জিকা মতে আগামী ৮ অক্টোবর শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এ দিন হবে ষষ্ঠি পূজা। আর ১২ অক্টোবর শনিবার দশমীতে চোখের জলে দেবী বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ।অন্যান্য মণ্ডপের কাজ শেষ পর্যায়।

খুলনাজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ  উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয়  কমিটির সাবেক সদস্য দীপক কুমার সরদার বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন শুধু মাত্র বাকি আনুষ্ঠানিকতা। আশা করি এবারের পূজা আনন্দ ও নিরাপদে উৎযাপন করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, দাকোপ  উপজেলায় মোট ৮১টি মন্দিরে   এবং খুলনা জেলায় ৮৮৭ টি  মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতির কাজ আশি ভাগ শেষ হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে সে জন্য পুলিশ প্রশাসন সর্বদা দায়িত্ব পালন করবে। আমরা সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এ উৎসবে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

দাকোপ  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু   জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এ উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শতভাগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।