শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিস্তা অববাহিকার মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে চীনা বিশেষজ্ঞ দল সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীর ১০৮ কিলোমিটার খনন, নদীর দুই তীরে ভাঙনরোধ ব্যবস্থা, চর উন্নয়ন, আধুনিক সেচব্যবস্থা, নৌপথ চালু, কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নদীভাঙন রোধ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা মারাত্মক ভাঙনপ্রবণ। প্রতিবছর নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গত শনিবার রংপুর মহানগরীসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান। তারা বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে এই প্রকল্পের বিকল্প নেই।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর দুই পাড়ে তীররক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক কৃষি অঞ্চল, পর্যটন অবকাঠামো, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।