দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

চীন সফরে শি জিনপিং ও লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

34

ঢাকা:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন। এ সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের কর্মসূচি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ডালিয়ান-এ পৌঁছাবেন। ২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি সামার দাভোস-এ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সফরের প্রথম দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফ সম্মেলনের “Climate Leadership in Shifting Global Landscape” শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে অংশ নেবেন।

২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “Innovating at Scale”। অনুষ্ঠান শেষে তিনি ট্রেনে করে বেইজিং যাবেন এবং সেখানে দিয়াওউথাই স্টেট গেস্ট হাউস-এ অবস্থান করবেন।

২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত “বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম”-এ বক্তব্য দিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।

বিকেলে চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।

২৬ জুন ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ার-এ বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিকেলে তিনি বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান ‘Comprehensive Strategic Cooperative Partnership’-কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে একটি বিশেষ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। এ সফরে বিভিন্ন চীনা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে।

তিনি আরও জানান, বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা বর্তমানে ২৮ জন নির্ধারণ করা হয়েছে।