দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

চাঁদা না পেয়ে মৎস ঘের লুট ও ভাংচুর করলেন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা

5
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ চাঁদা না দেওয়ায় একটি মৎস্যঘেরে হামলা ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
 খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে জোর পুর্বক মৎস্য ঘের লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন ঐ ইউনিয়নের সামাদ শেখের পুত্র মোহাম্মদ আলী শেখ।
 সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি জানান, একই এলাকার বাগালি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন সহ জাফর, হাসানুর, ইমরান, ফিরোজ, বাবু জাহাঙ্গীর সহ ২০/২৫ জন গত ১ জুন সকালে আমার মৎস্য ঘের লুটপাট করে এবং বাসা ভাংচুর করে। আমি বিষয়টি ৭/৮ জনের নাম উল্লেখ করে কয়রা থানায় এজারের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ইকবাল হোসেনের সাথে আমাদের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। তারই জের ধরে সে প্রতিনিয়ত আমাদের নানাবিধ ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছে। বর্তমানে আমি যে মৎস্য ঘেরটি ভোগ দখল করে আছি। ঐ মৎস্য ঘেরটি করতে হলে ইকবাল হোসনকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে জানিয়ে দেয়। আমি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে তিনি। এমতাবস্থায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১ জুন রাতে আমার মৎস্য ঘেরে দলবল সহ দেশীয় অস্ত্র শাস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে ঘেরে  প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে লুটপাট করে ও ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল করে নিয়ে যায়। এতে করে আমার প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরবর্তিতে আমি জানতে পেরে আমার মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করতে গেলে আমাকে সহ আমার ভাই আব্দুল কাদেরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে আমাদের চেঁচামেচিতে স্থানীয় লোকজন এসেে ঘটনাস্থল হতে আমাদেরকে ডাকে স্বদেশে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কয়রা থানায় এজারের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
তবে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইকবাল হোসেনের সাথে কথা বললে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন,  আমি ঘটনার সাথে কোন প্রকার জড়িত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সুনাম ক্ষুন্নর জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।
খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৃত ঘটনাটি জানার জন্য কয়রা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
 কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ শাহ আলম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।