দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করল ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ৩ সদস্য

23
মোংলা :

সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সদস্য অস্ত্র ও গুলিসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকায় জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

আত্মসমর্পণকারী তিন বনদস্যু হলেন— মো. আলামিন হোসেন (৪০), বাড়ি মোংলা; তৈবুর রহমান (২৪), বাড়ি সাতক্ষীরা; এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০), বাড়ি খুলনা।

আত্মসমর্পণের সময় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে ২টি দেশীয় একনালা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১টি ওয়াকিটকি জমা দেন। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে জিম্মি থাকা এক জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধার হওয়া জেলেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন এবং জব্দকৃত অস্ত্র-গুলির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে সুন্দরবনের আরেক কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ সাত সদস্য ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

এদিকে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন অভিযানে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

একই সময়ে বনদস্যুদের কবল থেকে ৪১ জন জেলে ও বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধানসহ আরও সাত বনদস্যুও অস্ত্র ও গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

 

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত এবং বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণে আগ্রহী দস্যুদের জন্য পুনর্বাসনের সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।