দাকোপ :
খুলনার দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ধোপাদী গ্রামে জমি দখল ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শৈশব কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে জমি সংক্রান্ত অনিয়মে সহযোগিতা, সরকারি জমি দখল এবং স্থানীয় এক পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ভুক্তভোগী পক্ষ।
ভুক্তভোগীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শৈশব কান্তি রায় ও তার বাবা স্থানীয় ভূমি অফিসের নায়েবের সঙ্গে যোগসাজশ করে ধোপাদী গ্রামের কয়েকজনের জমি ভুয়া রেকর্ডের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রায় ৩৫ বিঘা সরকারি জমি দখলে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যতম সদস্য সঞ্জীব বিশ্বাসের বাবা ও দাদা ক্রয়সূত্রে পাওয়া একটি সম্পত্তি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই সম্পত্তি থেকে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ধোপাদী গ্রামের জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। আদালতের আদেশ ছাড়া ক্ষমতার প্রভাব বা জোরপূর্বক কাউকে উচ্ছেদ করা উচিত নয় বলেও শরীকরা দাবি করেন।
গ্রাম্য সালিশির মাধ্যমে সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসেন ইউপি সদস্য গাজী ফয়সাল আলম। তিনি প্রতিবেদক কে বলেন, তার কোনো নিজস্ব বাহিনী নেই। সাধারণ ও নির্যাতিত মানুষই তার সঙ্গে রয়েছেন। কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই বার সরাসরি বিপুল ভোটে নির্বাচিত সদস্য বলেও দাবি করেন। এমনকি আমি নির্বাচিত হলেও আমার ভোট আমি দিতে পারি নাই, তবুও জনসাধারণ ভোট দিয়ে একাধিকবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চুরি করে নির্বাচিত হইনি। বিগত সময়ে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে এ পর্যন্ত এসেছি। আমার কোনো ব্যক্তিগত বাহিনী নাই, সাধারণ মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষেই কথা বলছি।’ কিন্তু একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমুলক ভাবে অপপ্রচার করছে। সরজমিন সকল বিষয়ের সততা পাওয়া যাবে।
স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধটি দীর্ঘদিনের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা রয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা, রেকর্ড ও দখল নিয়ে প্রকৃত তথ্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজন হলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির মালিক সঞ্জীব বিশ্বাস বলেন, আমাদের জমি ৭০/৮০ বছরের আগে থেকে ভোগদখল করে করছি। কিন্তু ২৪ এর আওয়ামী মার্কা নির্বাচন পরবর্তীতে সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে ঐ ছেলেটা জমির ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে নিজের দাবী করে। এমনকি পেশীশক্তির পাশাপাশি মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে দখল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে পরে, তিনি থানা পুলিশ আইন আদালত অমান্য করে দখলের চেষ্টা করে। কিন্তু সকল অচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে সামাজিক ভাবে হয়রানির পথ বেঁচে নিয়েছে। তার এহেন কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নিবে।
তবে এসকল অভিযোগের বিষয়ে শৈশব কান্তি রায়ের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তিনি ফোন ধরেনি।
তবে তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা গেলে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।