কেশবপুর :
‘কৃষিই সমৃদ্ধি, করব মোরা ফল চাষ—সংরক্ষণ করব বারো মাস’ প্রতিপাদ্যে যশোরের কেশবপুরে ফল চাষ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুরের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন কৃষক, উদ্যোক্তা ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মোছা. রেকসোনা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন, তেমনি দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, ফল উৎপাদনের পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে সারা বছর দেশীয় ফলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, ফল মেলার মতো আয়োজন কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে সচেতনতা সৃষ্টি করে। কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে প্রশাসন সবসময় পাশে রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষকদের মধ্যে ফল চাষের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে ফল উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং পৌর জামায়াতের আমির প্রভাষক মো. জাকির হোসেন।
মেলা উদ্বোধনের পর অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং দেশীয় ও বিদেশি জাতের ফল, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মেলায় উপজেলার বিভিন্ন কৃষক ও উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির ফল প্রদর্শন করেন।
স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত এ ফল মেলা কৃষি উন্নয়ন, ফল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।