দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে দেশীয় মাছ রক্ষায় অভিযান, ধ্বংস ২ হাজার মিটার অবৈধ জাল

33

কেশবপুর :

যশোরের কেশবপুরে দেশীয় মাছ, মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ২ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বিল, খাল ও নদীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার দেশীয় মাছ, মাছের পোনা এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিয়ন আনসার দলনেতাদের মাধ্যমে সাতবাড়িয়া ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদ এলাকায় অবৈধভাবে এ জাল ব্যবহারের তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে কপোতাক্ষ নদ ও সংলগ্ন বিল থেকে আনুমানিক ২ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, চায়না দুয়ারী জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অবৈধ জাল। এ জালের মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তাই অবৈধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ ধরনের জাল মাছের প্রজনন ব্যাহত করে এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে। মৎস্যজীবীদের আইন মেনে মাছ আহরণে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী, পুলিশ সদস্য, আনসার সদস্য এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।