দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণের সুপারিশ সিপিডির

35

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ও সুসংহত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ, বাস্তবভিত্তিক মূল বাজেট প্রণয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে ‘সরকারের ছয় মাস : কার্যক্রমের পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

এতে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শক্তিশালী সমন্বয়, বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সিপিডি জানায়, তারা ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে নয়টি ক্ষেত্রে ভাগ করেছে। এর মধ্যে যেসব উদ্যোগ জনকল্যাণমূলক, সংস্কারমুখী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম, সেগুলোকে ‘স্বস্তির ক্ষেত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে সেগুলোকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসে সুশাসন, সরকারি অর্থব্যবস্থা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংকিং, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও সংস্কারমুখী কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ৩১টি সূচকের মূল্যায়নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতিতে সিপিডি সরকারকে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ ও ঘোষণার বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বাধা সৃষ্টি করা কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলায় সমন্বিত সংস্কার কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

সিপিডি জ্বালানি, নিরাপত্তা, ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) যৌক্তিকীকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটালাইজেশন এবং প্রস্তাবিত বেতন কমিশনসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সময়সীমাবদ্ধ দেশীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম, স্থগিত ১৫০ কূপ খনন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি এবং বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সিপিডি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানো এবং সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের সুপারিশ করেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিভিন্ন সরকার ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ জন্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসকে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, অর্থমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদে বেতন কাঠামো, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, বিদ্যুৎ খাত সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য বাস্তব তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক কাঠামোর ভিত্তিতে একটি মূল বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

সিপিডি বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, সরকারি ব্যয়ের মান বৃদ্ধি এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে সিপিডি। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলো মোকাবিলা এবং টেকসই পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাবিজের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও রপ্তানি সেবা একীভূতকরণ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬ কার্যকর হওয়া এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ)-এর সমন্বয়ে একক কর্তৃপক্ষ গঠনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর এবং নতুন ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড গঠনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিপিডি জানায়, বাংলাদেশ-চীন সফরে ডিজিটাল অর্থনীতি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, অবকাঠামো এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইসহ ২১টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরও ইতিবাচক উদ্যোগ।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সিপিডি সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সমন্বয়, জবাবদিহিতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবমুক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সিপিডি বলেছে, আগামী দিনে সরকার কীভাবে নিজেদের অঙ্গীকারকে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ও কার্যকর বাস্তবায়নে রূপান্তর করতে পারে সেটাই মূল প্রশ্ন হবে।

প্রতিবেদনে প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন, ডিজিটালাইজেশন, বিনিয়োগ সহায়তা, আর্থিক খাত সংস্কার এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাকে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুধু বিচ্ছিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না; বরং কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

সুশাসন, বিচার ও জনপ্রশাসন খাতে ‘স্বস্তির ক্ষেত্র’ হিসেবে সিপিডি উল্লেখ করেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা গ্রহণ না করার ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের সিদ্ধান্তকে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ আইনগতভাবে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা ১৯ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি, মেহেরপুরের একটি শিশু ধর্ষণ মামলা ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং ২০২৬ সালের ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চের মাধ্যমে ১০টি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল নিষ্পত্তির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সিপিডি একাধিক ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাবার ব্যয় জনপ্রতি ১৫০ টাকায় সীমিত রাখা, সরকারি যানবাহন ক্রয় স্থগিত করা, বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল এবং ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশ প্রটোকল প্রত্যাহার।

ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা চালু এবং পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তা সম্প্রসারণকেও সিপিডি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে সিপিডি বলেছে, এর মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় এক বছরে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সিপিডি আরও উল্লেখ করেছে, ২৮ জেলায় ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে, দুই জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু করা হয়েছে এবং অনলাইন ই-কজ লিস্ট ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ও দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডিজিটাল সমন ও অনলাইন প্রমাণের আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিপিডি বলেছে, অর্থ আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিনিয়োগের উৎস প্রকাশের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে এবং ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ই-রিটার্ন চালু করেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অর্থ আইনে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারী যোগ্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর রেয়াত এবং অতিরিক্ত কর ফেরতের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার বিধান রাখা হয়েছে।

নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি।

মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নিম্নআয়ের ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিডি। লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বিদ্যমান হার বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৬ সালের সংশোধিত বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্টের আওতায় সমুদ্র এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানকেও ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি।

এছাড়া ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কৃষি খাতে সিপিডি জানিয়েছে, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং এর ওপর জমা হওয়া সুদ মওকুফ করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলো যোগ্য কৃষকদের ঋণ অবলোপন করেছে।

সিপিডি আরও জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা ইএফটি ও আইবাস++ এর মাধ্যমে বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ দেওয়ার জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্ট স্টেন্ট, হার্ট ভালভ, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা প্রত্যাহারকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সামাজিক কল্যাণ ও সুরক্ষা খাতে সিপিডি জানিয়েছে, সরকারের পর্যায়ক্রমিক জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড, ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড এবং ৩০০টি স্পোর্টস কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন, ডিজিটালাইজেশন, বিনিয়োগ সহায়তা, আর্থিক খাত পুনর্গঠন এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক দিক নির্দেশ করে।

একই সঙ্গে আগামী দিনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার মূল্যায়নের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো তুলে ধরেছে সিপিডি।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রথমে মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ও সুদের হারে স্থিতিশীলতা আসতে হবে। এরপর জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উন্নতি এবং পরবর্তীতে বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানে গতি আসবে।

সিপিডি জ্বালানি সংকটের একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যমেয়াদি সমাধান এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের বাইরে বিনিয়োগ সৃষ্টিতে সক্ষম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুধু পৃথক নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না; বরং সরকারের কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও নির্ভর করবে।

এ জন্য সিপিডি সরকারকে আগামী মাসগুলোতে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ২০২৬-কে কাজে লাগিয়ে প্রতিশ্রুতিগুলোকে সময়সীমাবদ্ধ বাস্তব সংস্কার রোডম্যাপে রূপান্তর এবং কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে আগামী মাসগুলোতে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে, প্রতিশ্রুতিগুলোকে সময়সীমাবদ্ধ সংস্কার পরিকল্পনায় রূপান্তর এবং কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।