মোংলা :
অভাবের তাড়নায় নিজের মাথার চুল কেটে বিক্রি করা বাগেরহাটের রামপালের অসহায় নারী রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তার দুর্দশার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে এলাকার বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ওই নারীর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার বিকেলে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী রেহানা খাতুনের কাছে ছুটে যান। রেললাইনের পাশে সরকারি জায়গায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান নেওয়া রেহানার হাতে তিনি নগদ অর্থ তুলে দেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের জন্য এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে তার প্রতিনিধি অপু রায়হান ও আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসী বলেন, সম্প্রতি অভাব-অনটনের কারণে রামপালের সন্তোষপুর গ্রামের অসহায় নারী রেহানা খাতুন নিজের মাথার চুল বিক্রি করেন। বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে আসার পর তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রেহানাকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেহানা খাতুনকে গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন রেহানা খাতুন। মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় তিনি রেললাইনের পাশে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। ঘরভাড়া পরিশোধের জন্য নিজের চুল বিক্রি করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।