দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে রাজশাহীতে আলু বেচাকেনা বন্ধ

31

প্রতিবেদন:
রাজশাহী প্রতিনিধি | দৈনিক খুলনা

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে রাজশাহীতে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত হিমাগার থেকে আলু বের না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আন্দোলনের প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন হিমাগারে কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন হিমাগার ঘুরে দেখা যায়, আলু উত্তোলন, পরিবহন ও বেচাকেনার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সাধারণত এ সময় হিমাগারগুলোতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও আন্দোলনের কারণে সেখানে ছিল নীরবতা।

আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগার পরিচালনার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংরক্ষণ ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমান ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, ভাড়া কমানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও বৈঠক করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, একটি বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগার মালিকদের সর্বোচ্চ খরচ প্রায় ১০০ টাকা হলেও চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪৭৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের মতে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে ৩৬টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিদিন এসব হিমাগার থেকে হাজার হাজার বস্তা আলু বাজারে সরবরাহ হয়। বর্তমানে আন্দোলনের কারণে সেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

আলুচাষি হারুন জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাই যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আলু বিক্রি ও উত্তোলন কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

অন্যদিকে, হিমাগার মালিকরা বলছেন, বিদ্যুৎ, শ্রমিক মজুরি ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংরক্ষণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান ভাড়া বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ বলেন, গত বছরও আন্দোলনের পর ভাড়ায় সমন্বয় করা হয়েছিল। এবারও চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভাড়া কমানোর দাবি তুলেছেন। তবে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়া যৌক্তিক বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেন, সরকার এখনো চলতি মৌসুমের জন্য আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তিনি জানান, বাজার ব্যবস্থায় বেচাকেনা বন্ধ বা চালু রাখা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে বাজারে আলুর সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।