দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরি করে খেলেন তিন বন্ধু, শোকজ নোটিশ পেলেন প্রধান শিক্ষক

28

পিরোজপুরের নেছারাবাদে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা জানাজানির পর ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরতও দিয়েছেন অভিযুক্ত তিন যুবক। তবে, এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত তিন যুবক দুধগুলো ফেরত দিয়ে যান।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে তার মধ্যে তিন বন্ধু তিন প্যাকেট খেয়েছে। বাকি দুধ ভাগবাটোয়ারা করে বাসায় নিয়ে যায়। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে সেই দুধ ফেরত দিয়ে যায় তারা।

 

এদিকে বিদ্যালয় থেকে দুধ চুরি হলেও বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে অবগত না করায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

শোকজে প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

 

এর আগে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুধ চুরির এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় ‘বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাব’ এর সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু। তবে অভিযুক্ত নাদিম দাবি করেছেন, তিনি ও তার বন্ধুরা মাত্র তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, এটি তারা জানতেন না।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসাম্মৎ আশা বলেন, শুক্রবার বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আসেন। তাদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা শিশুদের স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

তার দাবি, নাদিমসহ স্থানীয় তিন যুবক ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুধ চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নাদিম ও তার সহযোগীরা ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে যান।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিন্নায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ে আসায় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে স্কুল খুলে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা তাদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নাদিম ও তার দুই বন্ধু গোপনে নিয়ে যান।

 

তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে ২৭ প্যাকেট দুধ তারা ফেরত দিয়ে গেছে। মাঝখান থেকে আমাকে শোকজ খেতে হলো।

 

নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার। অথচ, এই কয়দিনে আমাদের অফিসে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।