দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় হেমায়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

26

সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি ও মৎস্যঘের দখল এবং সরকারি এক নারী কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনার চত্বরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের বাসিন্দা নাজমিন সুলতানা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দুদলী গ্রামের সৈয়দ হেমায়েত আলী (বাবু) ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, জমি ও মৎস্যঘের দখল, চলাচলের রাস্তা বন্ধ এবং বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মামলার তথ্য তুলে ধরে নাজমিন সুলতানা বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তার ছোট বোন, সরকারি পরিবার কল্যাণ সহকারী তানিয়া সুলতানার ওপর ধর্ষণের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগে পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কালিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া গত ২৫ এপ্রিল সাবেক সেনা সদস্য নাসির উদ্দীনের পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় আরেকটি মামলা এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাজমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার এসআই জহির রায়হান সঠিকভাবে তদন্ত করছেন না। তার দাবি, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মামলাগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবরুদ্ধ রাস্তা উন্মুক্ত করা, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমিন সুলতানার মেজো বোন শারমিন সুলতানা লাকী ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

উল্লেখ্য, এ সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।