দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় নদী-খালের ৩০২ দখলদার উচ্ছেদ ও তালিকা বাস্তবায়নের দাবিতে নাগরিক সভা

32

সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলার সাতটি নদ-নদী ও খালের ৩০২ জন চিহ্নিত দখলদারকে অবিলম্বে উচ্ছেদ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি।

শনিবার (১ আগস্ট) শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক পরামর্শ সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়। সভার আয়োজন করে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা)।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নদী-খাল দখলের কারণে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ইছামতি, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, যমুনা, খোলপেটুয়া নদী এবং নৌ-খালের ৩০২ জন দখলদারের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা বাস্তবায়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তাদের মতে, শুধু ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন বা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় ১০ দফা নাগরিক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নদীর সীমানা নির্ধারণ করে ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন, চিহ্নিত ৩০২ দখলদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খাল পুনঃখনন, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যকর করা এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করা।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, “নদী বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে। জেলা প্রশাসন দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী এবং বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবুল।

সভা শেষে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে হস্তান্তরের জন্য একটি ‘সাতক্ষীরা নাগরিক সুপারিশপত্র’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।